• 38

মতামত

‘সফলতার অন্তরায় একতাবদ্ধার অভাব’

‘সফলতার অন্তরায় একতাবদ্ধার অভাব’

‘কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স’ পোস্টার

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬’র রোববারের নিয়মিত আয়োজন ‘কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স’। এতে এবারের পর্বে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার- ১২’র আহনাফ আলম, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার-৩’র ফাহাদ সোলায়মান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ কাসেম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ আলী



কেমন আছেন আপনারা?

আহনাফ আলম: আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার পরিবার এখন পুরোপুরি ভালো আছি। যদিও জানুয়ারিত পরিবারের সবাই কোভিড আক্রান্ত ছিলাম। আপনাদের দোয়ায় সবাই রিকভারি করতে পেরেছি।

ফাহাদ সোলায়মান: আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার পরিবারসহ ভালো আছি। আমি বিশ্বাস করি ভালো-ভালো কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা এর প্রতিদান দেবেন-ই। যদিও আমার করোনা পজিটিভ এসেছিলো কিন্তু আমার এমন কোনো উপসর্গই ছিলোনা।

মোহাম্মদ কাসেম: আমি যদিও কোভিড এ আক্রান্ত ছিলাম তবে এখন আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সকলেই ভালো আছি।


করোনায় দক্ষিণ-এশিয়ান আমেরিকান প্রায় চারশতাধিক বাঙালি ভাইদের হারিয়েছি। আমরা এতো বেশি আক্রান্ত হলাম কেন?

আহনাফ আলম: আসলে আমেরিকাতে যখন করোনাভাইরাস আসে আমরা কেউই তো এই নতুন ভাইরাস সম্পর্কে জানতাম না। এছাড়াও আমরা যারা দক্ষিণ-এশিয়ান আমেরিকান আমরা যে ধরনের কাজ করি, যেমন উবার ড্রাইভ-শপিং মল-রেস্টুরেন্ট জব, এই কাজগুলোতে কোভিড আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। আমার কাছে মনে হয় এজন্যই আমাদের আক্রান্তের হার বেশি ছিলো।

ফাহাদ সোলায়মান: আপনারা জানেন, নিউইয়র্ক সিটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। বিশেষ করে আমরা কেউই কিন্তু প্রিপেয়ার্ড ছিলাম না এমন অবস্থার জন্য। হাসপাতালগুলোই সেই ভাবে প্রিপেয়ার্ড ছিলোনা। আপনি জানেন এখানে মাত্রাতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া হওয়ার ফলে এক ফ্যমিলির স্থানে একাধিক ফ্যামিলিকে থাকতে হয়। সব মিলিয়ে বলতে গেলে ঘনবসতি হওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে।

মোহাম্মদ কাসেম: কোভিড আমাদের কাছে একদম নতুন একটা বিষয় ছিলো। ব্যক্তি-পরিবার বা রাষ্ট্রীয়ভাবেও কিন্তু আমরা কেউ প্রিপেয়ার্ড ছিলাম না। এটার ধরন বুঝতে গিয়েই আসলে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবুও আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেকটাই রিকভারি করেছি। শুধু আমরা কেন,পুরো পৃথিবীই কিন্তু আক্রান্ত হয়েছে এই অচেনা ভাইরাসে। আমরা হারিয়েছি আমাদের স্বজন-প্রিয়জনদের।


ভবিষ্যতে এর চেয়ে ভয়াবহ সমস্যা এলে আমাদের সংগঠনগুলোর কিভাবে কাজ করা উচিত?

ফাহাদ সোলায়মান: আসলে কোভিড -১৯ আমাদের জন্য একটা বড় শিক্ষা। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সকল সংগঠনকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে এই রকম মহামারী মোকাবিলার জন্য। একতাবদ্ধতাই তো আসলে বল।

আহনাফ আলম: আমরা আলাদা-আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে যতটা মানুষের পাঁশে গিয়ে দাঁড়াতে পেরেছি, আমি বিশ্বাস করি সকল সংগঠন একসাথে কাজ করলে অনেক বেশি মানুষ উপকৃত হতো। তাই আমি আশা করবো সামনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। 

মোহাম্মদ কাসেম: পৃথিবীর কোথাও আসলে একতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সকল সংগঠন একত্রিত হয়ে যদি কমিউনিটির পাঁশে দাঁড়াতে পারি তাহলে আমরা অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারবো। শুধু করোনা ভাইরাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের আরো বেশি একতাবদ্ধতা প্রয়োজন।


আমাদের বড় একটা অংশ মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত। কিন্তু সাফল্য সেইভাবে পাচ্ছি না কেন?

মোহাম্মদ কাসেম: সফলতার বিভিন্ন স্তর আছে। আমরা যে একেবারেই সফল না সেটাও কিন্তু বলা যাবে না। তবে হ্যাঁ যতটা হবার কথা ছিলো ততটা সফল আমরা হইনি। আমার কাছে মনে হয় আমরা মুলধারায় সফল হতে পারছি না এর কারণ একটাই। সেটা হলো একতাবদ্ধতার অভাব। আমাদের অহমিকা ও অহংকার ভুলে একসাথে এক জনপ্রতিনিধি কে যদি ডিস্ট্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই তাহলে আমরা সফল হবো আশা করি।

 

অনেক প্রতিনিধির অভিযোগ বাংলাদেশি ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে না? 

আহনাফ আলম: এটা একটা ভুল ধারণা। আমরা প্রতিনিধিরাই হয়ত ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য যথেষ্ট কাজ করিনা। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আর শুধু বাংলাদেশিদের ভোটেই কিন্তু আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে না। আমাদের অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় নির্বাচনের দুই এক মাস আগে থেকে প্রচারণা চালায়। আমি তাদের বলবো অন্তত এক বছর আগে থেকে প্রিপারেশন নিতে হবে। আমি চাইবো একে অন্যকে সাহায্য করার ফলেই আমরা মেইনস্ট্রিম এ সাফল্য অর্জন করবো। 


বাইডেন প্রশাসনের প্রায় ১০০ দিন হতে চলল, তারা কতটা সফল বা ব্যর্থ?

মোহাম্মদ কাসেম: আমি মনে করি করোনা পরিস্থিতির এই সময়টাতে জো বাইডেন প্রশাসন বেশ সফলতার সাথেই পাড়ি দিচ্ছেন। আমি রিপাবলিকান সাপোর্টার হয়েও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাজে অনেকটাই সন্তুষ্ট। সমালোচনা করতে চাইলে আপনি সবারই সমালোচনা করতে পারবেন। আমি সেই দিকে যাচ্ছি না। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখনো আসলে মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে হাত দেয়নি বলে এই প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।


মোহাম্মদ আলী: আপনাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক ব্যাস্ততার মাঝেও আপনারা এই অনুষ্ঠানে সময় দিয়েছেন। আমি আশা করি আপনারা এভাবেই কমিউনিটির পাঁশে থেকে কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আপনার মতামত লিখুন :