• 27

আব্দুল হাকিম আযাদী

‘দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া উচিৎ’

‘দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া উচিৎ’

মোটিভেশনাল মানডে পোস্টার

‘কাউকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা শরীয়াহ সম্মত কিনা’-এই বিষয়বস্তু নিয়ে সাজানো ছিলো এবারের সাপ্তাহিক আয়োজন ‘ মোটিভেশনাল মানডে’। এতে আলোচক হিসেবে যথারীতি যুক্ত ছিলেন ফ্লোরিডার মসজিদ-উল-মুমেনিনের খতীব আব্দুল হাকিম আযাদী। সঞ্চালনায় ছিলেন আরজে আরিয়ান।


আসসালামু আলাইকুম। শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি আজকের এই আয়োজনে।

ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনাকে ধন্যবাদ। 


দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া শরীয়াহ মোতাবেক আবশ্যিক কিনা?

একজন পুরুষ তার শারীরিক বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করার শরীয়াহভিত্তিক অনুমতি রাখে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্ত্রীদেরকে সমান অধিকার দিতে হবে,,স্ত্রীদের সমান অধিকার দিতে না পারার আশংকা থাকলে অবশ্যই একাধিক বিয়ে নয়।দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া উচিত, এটা পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ। তবে শরীয়াহ মোতাবেক এটা আবশিক্য নয়। তবে উভয়কে সমানভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখাটা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বৈবাহিক ধর্মীয় রীতিতে কোনো পরিবর্তন রয়েছে কি?

না। দুইজন সাক্ষীর সামনে কাজি সাহেব ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে পড়াবেন। রাষ্ট্রের নিয়মনীতি ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রথম বিয়ে বা মুসলিমদের অন্য বিয়ের মতই দ্বিতীয় বিয়ে পড়াতে হবে।


বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামা থাকাটা কি বাধ্যতামূলক? 

আমরা সবাই কিন্তু পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অংশ। আমাদের ধর্মীয় বিধান মানা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি রাষ্ট্রের বিধান মানা (যদি সেটা কুরআন -হাদীসের বিপক্ষে না যায়)। বিয়ের ক্ষেত্রে মোহরানা নির্ধারণ পুর্বক দুজন সাক্ষীসহ ইসলামিক নিয়ম মেনে বিয়ে পড়ালেই বিয়ে হয়ে যায়। কাবিননামা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু না। তবে এটা রাষ্ট্রের বিধান। কাবিননামা থাকলে আপনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অধিকার গ্রহণ, সুবিধা গ্রহন, সম্পত্তির বন্টণসহ বিভিন্ন সুযোগ পাবেন বলেই অবশ্যই কাবিননামা করা উচিত। 


কাউকে না জানিয়ে বিয়ে কিংবা দ্বিতীয় বিয়ে করাটা কি শরীয়াহ সম্মত?

ইসলামে এরকম বিয়ের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে আমরা নবী করিম ( স.) এর সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় দেখতে পাই বিয়েতে সবাই আনন্দ করে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর খুরমা খেজুর কিন্তু ছড়িয়ে দেয়ার নিয়ম যাতে সবাই উৎসাহ আনন্দের সাথে বিয়ে উদযাপন করতে পারে। সুতরাং শরীয়াহ মোতাবেক কোন নিষেধ না থাকলেও উচিত উৎসব আনন্দের মাঝেও মানুষকে জানিয়ে বিয়ে করা।


কারো ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সমালোচনা কতটা যৌক্তিক?

এটা যে শুধুমাত্র অযৌক্তিক বিষয়টা তাই নয়, এটা ইসলামিক মতে জঘন্যতম পাপ। এর জন্য আপনাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। আপনি দেখবেন সাধারণ যে কোনো মামলার ক্ষেত্রে তদন্তনাধীন অবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এটা নিয়ে মিডিয়াতে কথা বলেন না। এটা বলা একদম অনুচিত। কারণ ধরুন আমি যে বিষয় নিয়ে কারো সমালোচনা করলাম বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলাম তদন্তের পর দেখা গেলো সেটা মিথ্যা। তখন? আপনি কি আপনার কথা ফিরিয়ে নিতে পারবেন? পারবেন না। তাই আমাদের তদন্তনাধীন বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করা উচিত। 


এফএম-৭৮৬’র দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দ্যেশে যদি কিছু বলার থাকে?

সবাই কে বলবো সুস্থ্য থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। সর্বদা সত্যের প্রচারক হবেন। সত্য কথা বলার সাহসিকতা থাকতে হবে। ভালো-মন্দ যাই আসুক না কেন সত্যকে গ্রহণ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :