• 89

সূবর্ণজয়ন্তীতে প্রতিক্রিয়া

স্বাধীনতার ৫০ বছর: প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবনা

স্বাধীনতার ৫০ বছর: প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবনা

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ

 ১৯৭১ থেকে ২০২১।  ৫০ বছরে বাংলাদেশ। উদযাপন হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। দীর্ঘ পথচলায় আছে হারানোর কষ্ট-অর্জনের উল্লাস।  কেমন আছে বাংলাদেশ? এসব বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন প্রবাসী কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।


ড. নুরুন নবী:  যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, সেই দেশটি মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারছি। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই দেশ দিয়ে গেছেন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট না এলে এই দেশকে তিনি কোথায় নিয়ে যেতেন তা কল্পনার বাইরে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে সুষ্ঠু নেতৃত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক-কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছে চলেছেন। কিছু ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। গ্লোবালাইজেরে কারণে অন্য দেশের মৌলবাদ-উগ্রবাদ আমাদের দেশে ঢুকে পড়ে। আমি মনে করি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মৌলবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।


তাজুল ইসলাম: পঞ্চাশ বছর একটি দেশের জন্য খুব বেশি সময় নয়। তবে অনেকের জন্য তা দীর্ঘ। আমি মনে করি ৫০ বছরে বাংলাদেশ উত্থানের নজির সৃষ্টি করেছে। পতন ঘটেছে রুচি-মনন-সংস্কৃতি চর্চার। এক শ্রেণির মানুষের অন্ধ ধর্মান্ধতা আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে আমার স্বপ্ন এই দেশটি আরও আলোকিত হয়ে উঠুক। ধর্মীয় স্কলাররা যেন একটি স্ট্যান্ডার্ড চালু করেন যাতে ধর্মের নামে হিংস্রতা লোপ পায়। চাই ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হোক। 


গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ: মুক্তিযুদ্ধ একটি জাতির জীবনে একবারই আসে। আমরা সেই গর্বিত জাতি যারা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হবে শেরে বাংলা-সোহরাওয়াদী, মওলানা ভাসানীর নাম। কিন্তু আসল ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন যিনি, যিনি সারাটা জীবন এই স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত ছিলেন তিনি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাবে সশ্রদ্ধ সালাম। সূবর্ণজয়ন্তীর এই দিনে দাড়িয়ে বলতে চাই, দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে বঙ্গবন্ধু যে চিন্তা-চেতনা নিয়ে বাকশাল গঠন করেছিলেন ১৫ আগস্ট তাকে স্বপরিবারে হত্যার পর তা সাময়িকভাবে স্থবির হলেও, তার যোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা দেখে সত্যিই গর্বিত হই।


শওকত আকবর রিচি:  জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে ৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধে। এই দেশকে স্বাধীন করার চেতনা তখন এতোই শানিত ছিল যে আমরা ছিলাম অপ্রতিরোধ্য। ভয় করিনি বাঁচবো কি মরবো সেই কথা ভেবে। স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের গৌরবের বাংলাদেশ। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা না করলে আজ প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা অনেক আগেই সম্পন্ন করতেন জাতির পিতা।


কাদেরী কিবরিয়া: যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি অস্ত্র হাতে, গান গেয়ে উজ্জীবিত করেছি মুক্তিযোদ্ধাদের, সেই দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়, যখন সারা পৃথিবীর গণমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞরা প্রশংসা করেন তখন বুক ভরে যায়। মনে হয় আমার যুদ্ধ করা সার্থক হয়েছে। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে আমি চাই আমাদের সব স্বপ্ন পূরণ হোক।


রথীন্দ্রনাথ রায়: ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে জগন্নাথ হলে ছেড়ে আমি লক্ষ্মীপুরে বাড়ি চলে যাই। আমরা জানতাম মুক্তিযোদ্ধা হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ভাষণে। আমি তখন ভাওয়াইয়া ও লোকগীতি ছেড়ে গণসঙ্গীত গাইছি।  সেই সময়ের মহীরুহ আবদুল লতিফ, শেখ লুৎফুর রহমান, অজিত রায়, আলতাফ মাহমুদ, সুখেন্দু চক্রবর্তীর কাছে গণসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেলি। আমার গণসঙ্গীত শুনে বঙ্গবন্ধুও প্রশংসা করতেন। তাই তাঁর ডাকে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধে চলে যাই। এই সূবর্ণজয়ন্তীর দিনে আমার একটাই স্বপ্ন কে সরকারে আসবেন, কে বিরোধী দলে থাকবেন তা জনগণই ঠিক করবে-কিন্তু সকলকেই মুক্তিযুদ্ধে, বাংলাদেশের মূল আদর্শে বঙ্গবন্ধুকে মানতে হবে। কারণ এই দেশটি মুক্তিযুদ্ধের ফসল।


শহীদ হাসান: আমরা মাঝে মাঝে এগিয়ে যাই আবার পিছিয়েও যাই। সবই বাস্তবতা। কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে, বাংলাদেশের প্রশ্নে, বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে কোন শ কথা শুনতে চাই না। কারণ বঙ্গবন্ধুর ডাকে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য বুকে নিয়ে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আর সেজন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ ৫০ বছর পর যখন দেখি এইসব মীমাংসিত বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই খুশি হতে পারিনা।


ফারুক হোসেন: বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর মাঝে আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের খবর হচ্ছে, এতোদিন পরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হচ্ছে।  অমুক্তিযোদ্ধাদের নামের পাশে আমার নাম দেখতে চাই না। আমি চাই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হোক।


ড. মহসীন আলী:  মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করার জন্য। দেশ পেয়েছি। এটা ছিল আমার স্বপ্ন। কিন্তু যে দেশের জন্য যুদ্ধ  করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই দেশ হারিয়ে ফেলি। আজ এই সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে গর্বের সাথে বলছি, শতভাগ না হলেও গত ১৩ বছরে অনেক কিছু পেয়েছি। কারণ আমাদের সরকার ক্ষমতায়। আমাদের স্বপ্ন তিনি পূরণ করে চলেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :