• 245

আমেরিকায় নুর হোসাইন কাসেমী স্মরণে দোয়া মাহফিল

আমেরিকায় নুর হোসাইন কাসেমী স্মরণে দোয়া মাহফিল

আমেরিকার ইমাম উলামাদের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব, শাইখুল হাদিস আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী রহ. স্মরণে গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত আমেরিকার ইমাম উলামাগণ তার স্মৃতিচারণ করে বিভিন্ন বক্তৃতা প্রদান করেন।


আলোচনা ও দোয়া মাহফিলটির সঞ্চালক মাওলানা শায়খ রফিক আহমদ রেফাহী তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ঢাকা মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রাহিমাহুল্লাহর ইন্তেকালে উলামায়ে কেরাম ও দেশের তাওহীদী জনতা সংগ্রামী এক অভিভাবক কে হারালো। তার ইন্তেকালে ইসলামী অঙ্গন আজ গভীর ভাবে শোকাহত।


তিনি বলেন, আল্লামা কাসিমী রহিমাহুল্লাহ একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ এক অভিভাবক ছিলেন । ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ছিলেন সাহসের বাতিঘর।আন্দোলন সংগ্রামের আপোসহীন বলিষ্ঠ নেতা। তিনি ছিলেন আমাদের মাথার ছাঁয়া।আমৃত্যু ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।তার সকল অবদান আজীবন দেশ ও জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।


মাদানী একাডেমীর সভাপতি প্রফেসর মাওলানা মুহিবুর রহমান তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন,  শাইখুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ছিলেন ওলামায়ে কেরামের প্রাচীনতম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব, প্রায় ৪৫টি মাদ্রাসার পরিচালক । এসব বাদ দিয়ে তার সবচেয়ে প্রধান গুণ ছিল; তিনি ছিলেন একজন মুখলিস আলেমেদীন।


তিনি বলেন, কাউকে অনুসরণ করতে হলে তার চারটি বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হয়। এক- দীনদারী। দুই- মাসলাকের স্বচ্ছতা অর্থাৎ সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী কি না। তিন- মাযহাব অর্থাৎ চার মাযহাবের যেকোন একটির অনুসারী কি না। চার- মানহায, অর্থাৎ তিনি চলার ক্ষেত্রে কোন পলিসি গ্রহণ করতেন। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লামা কাসেমীর এ চারটি গুণের কোনোটির ক্ষেত্রেই কমতি ছিল না। তাই তো তাকে জাতি নিজেদের সিপাহসালার হিসেবে মেনে নিয়ে ছিলেন।


তিনি আরো বলেন, দেওবন্দীয়াতের চিন্তাধারা হলো, একজন আলেম দরস-তাদরিসে হবে দক্ষ শিক্ষক। খানকায় হবে প্রাজ্ঞ পীর বা শাইখ। আর ময়দানে হবে বীর মুজাহিদ। এ তিনটি গুণ ছিল হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মধ্যে। সময়ের ধারাবাহিকতায় এ অনন্যগুণগুলোকে শাইখ মাদানীর মতো করে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহিমাহুল্লাহ। যাকে বলা হয় বাংলার মাদানী। তার অবদানগুলো চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে জাতির কাছে।


মাওলানা রিদওয়ান হোসাইন তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, হুজুরের কাছে আমি বুখারি পড়েছি। দেওবন্দীয়াতের একটা অন্যতম আদর্শ হলো এতেদাল বা মধ্যম পন্থা। তার মাঝে আমি আমি এ গুণটির বেশ জোড়দারভাবে লক্ষ করেছি। তিনি ছিলেন প্রায় শ’খানিক মাদরাসার বুখারির উস্তাদ। তার ইবাদত ছিল অভাবনীয়। তিনি রাতে ছিলেন ইবাদতে মশগুল। আর দিনে ময়দানে সোচ্চার। এছাড়া তার আমানতদারীতার কোনো তুলনা হয় না। এ যুগে এসেও তার কোনো ব্যাংক একাউন্ট ছিলনা।


মাওলানা আজিরুদ্দীন তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, একবৃষ্টির রাতে আমরা হুজুরের মেহমান হয়েছিলাম। তার সঙ্গে আমদের কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল না। এরপরও তিনি নিজে ওই রাতে আমাদের মেহমানদারী করেন। এবং এতে কোনো বিরক্তবোধ করেন নি। আসলে ওই রাতে তার মাঝে আমি আকাবীরদের মেহমানদারীর যেগুণ ছিল তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। তার বিয়োগে জাতি একজন স্বচ্ছ পথপ্রদর্শক হারালো।


মাওলানা জাকারিয়াতার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, আল্লামা কাসেমী রহিমাহুল্লাহ ছিলেন মুখলিস আলেম এবং প্রাজ্ঞ রাজনিতীবিদ। তার জীবনের শেষ দিনগুলিতে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তার ইন্তেকাল সাধারণ মানুষকেও কাঁদিয়েছে। আমরা হাদিসে পড়েছি, উলামায়ে কেরামের চলে যাওয়া আসলে কেয়ামতের আলামত। হয়তো কেয়ামত খুব সন্নিকটে তাই এভাবে আমাদের পৃথিবী এভাবে উলামা শূণ্য হচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের চলা পথে চলার তাওফিক দিন।


মুফতি ইসমাইল তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, তালিম এবং তাবলিগ এ দুটোকে একসঙ্গে করে যারা কাজ করেছেন; তাদের মধ্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী অন্যতম। তিনি নিজের আশপাশের মানুষের কথা শুনে কখনো ভুল পথে চলেন নি। ছিলেন বিচক্ষণ। আর ছিলেন নির্লোভ।


মাওলানা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন,তাকে একবার নিজ হাতে আমাদের বাড়িতে মেহমানদারী করার সুযোগ হয়েছিল। আজকের এ দিনে খুব মনে পড়ছে সেদিনের স্মৃতিগুলো। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।


মাওলানা তাজউদ্দীন তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, তিনি চলে গেছেন। কিন্তু তার কাজগুলো আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তার স্বপ্নগুলো আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছেন। তাই আমাদেরকে তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর হতে হবে।

মাওলানা লুৎফুর রহমান তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, ‘নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একবার সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার অবর্তমানে আমরা কাদের সাথে চলবো? তিনি বলেছিলেন, যাকে দেখলে আমার কথা মনে হয় তার সাথে।’ আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার মাঝে নবীওয়ালা গুণগুলো বিদ্যমান ছিল। তাই তার সঙ্গে ওলামায়ে কেরাম চলেছেন। আল্লাহ তার কবরকে জান্নাত বানিয়ে দিক।


মাওলানা আনাস জামলুদ্দীন তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, তার রঙে যেন আমরা নিজেকে রাঙ্গাতে পারি; আমদের সে প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। শোক হোক আমাদের শক্তি।


মাওলানা মাসুদ তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতায় বলেন, তার চেহারা দেখলে আমার মনে হতো ‘এমনসব মানুষের জন্যই পৃথিবী টিকে আছে’। তাকে হারিয়ে আমাদের যে ক্ষতি হলো তা অপূরণীয়।

আপনার মতামত লিখুন :