• 452

আল্লামা কাসেমী স্মরণে নিউইয়র্কে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

আল্লামা কাসেমী স্মরণে নিউইয়র্কে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নিউইয়র্কের ওজন পার্কে বাংলার মাদানীখ্যাত আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রাহিমাহুল্লাহ-র জীবনী শীর্ষক এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাদানি একাডেমি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউএস-এর যৌথ উদ্যোগে আজ (১৮ ডিসেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।


ওজন পার্কের মাদানী একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মাওলানা মুহিবুর রহমান এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দারুল উলুম নিউইয়র্কের শাইখুল হাদিস মাওলানা আজিজুর রহমান।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রাহিমাহুল্লাহ-র জীবনী শীর্ষক এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- জামিয়াতুল উলুম নিউইয়র্কের প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ ইয়ামিন হোসাইন, নিউইয়র্ক স্টেট চ্যাপলিন মুফতি  আব্দুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ, দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহর মোহাদ্দিস মাওলানা হাম্মাদ গাজিনগরী, আইটিভি ইউএস-এর সিও মাওলানা শহীদুল্লাহ ও অনলাইনে যুক্ত হন ইমাম কাজী মাসুক আহমদ।


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা সাহিদ আহমদ, মাওলানা ফাহিম আহমদ, হাফিয আলী আকবর, মাওলানা আহমদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ আলী, হাফিজ জুবায়ের হাসান, মাইন উদ্দীন, মোহাম্মদ আবু বকর প্রমুখ।


উক্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে ‍উপস্থিত বক্তাগণ ওলামায়ে কেরাম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহিমাহুল্লাহ-এর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে তাকে জাতির সচেতন রাহবার বলে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, আল্লামা কাসেমীর ইন্তেকালে দেশ, জাতি, ধর্ম, সর্বক্ষেত্রে যে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে; তা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ও মহাশূন্যতা। দেশ ও ধর্মের প্রয়োজনে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত, অনুরক্ত ও অনুসারীদের হৃদয় মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন বহুকাল।


দীর্ঘ আলোচনা শেষে আল্লামা কাসেমী রহিমাহুল্লাহ-এর মাগফেরাত কামনায় এক আবেগঘন দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন অনু্ষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর মাওলানা মুহিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, উক্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে ‘সময়ের আদর্শিক রাহবার আল্লামা কাসেমি র.’ শিরোনামে তার সুবিস্তর জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা সাহিদ আহমদ। জীবন বৃত্তান্তটি ছিল এমন-


আল্লামা কাসেমীর শিশু জীবন : পারিবারিক স্কুলে পার করার পর বালক নুর হোসাইন কাসেমী র. প্রাইমারি শিক্ষা গ্রামের পাঠশালা থেকে অর্জন করেন । অত:পর মাধ্যমিক শিক্ষার টানে দেশের রাজধানী ও মসজিদের শহর খ্যাত ঢাকা সিটিতে পাড়ি জমান ।সেখানে মালিবাগ মাদ্রাসায় মাধ্যমিক লেভেল শেষ করেন ।


উচ্চশিক্ষা: অত:পর উচ্চশিক্ষা আহরনের টানে দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার কোরআন সুন্নাহর মার্কায বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে মধু আহরনে সুদুর ইন্ডিয়াতে রওয়ানা দেন । যেখানে পৌঁছার পর জানতে পারলেন দারুল উলুমের এই বৎসরের এডমিশন বন্ধ হয়ে গেছে,তাই তিনি পিছুটান নাকরে দেওবন্দ এলাকার নিকটবর্তী একটি মাদ্রসায় উক্ত বছরের অধ্যয়নের কাজ শেষে করেন ।এবং পরবর্তী শিক্ষাবৎসর দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হয়ে আরম্ভ করেন কোরআন সুন্নাহর যথাযথ মধু আহরন ।

আর তখনি তাঁকে ভাল করে চিনতে পারলেন দারুল উলুমের তারকা উস্তাদ মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরি র.এবং তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যত বাণীও করেন মুফতি মরহুম র.।


কর্মজীবন : তিনি কর্মজীবনে শুধু শুধু একজন শিক্ষকই নয়,বরং তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীবান্ধব এবং একজন অধ্যয়ন মগ্ন বিরল প্রকৃতির শিক্ষক ।তাঁর চোখ দুটির মনিকোঠাতে ছিল ছাত্রদের প্রতি অসীম ভালবাসা ও দরদ ।তাই যেকোন ছাত্র অতিসহজে হযরতের প্রতি ফেদা হয়ে উঠত এবং হজরত সবাইকে বাজি বলে সম্বোধন করেন বলেই ছাত্ররাও হযরতকে অনেকাংশেই বাজি বলেই সম্বোধন করতে ভালবাসত।

যার ফলাফল হল জরিপ করলে দেখাযায় বর্তমান ঢাকাসহ দেশের প্রথম সারির বিঙ্গ আলিমগন,ইসলামী সাহিত্যিকে, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবারদের অধিকাংশ জনই আল্লামা কাসেমী সাহেবের ছাত্র নাহয় ছাত্রেরও ছাত্র ।


কাসেমী উপাধি: কাসেম নানুতুবী র.এর হাতেগডা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের বিশ্বজোডা শিক্ষার্থীরা অনেকেই কাসেমি উপাধি নিজের নামের সাথে ব্যবহারও করেন,আবার অনেকে করেনও নি ।অতএব বাংলাদেশে যারা ‘কাসেমী উপাধি’ স্বীয় নামের সাথে ব্যবহার করেছেন তন্মধ্যে আল্লামা শামসুদ্দিন কাসেমি ও নুর হোসাইন কাসেমী র. দ্বয় বাংলার বুকে আদর্শিক বাদশাহ রুপে যেন কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন ।


মহা-পরিচালক: বাংলাদেশে হাতেগুনা যে কয়েকজন বুযুর্গ অর্ধশত, অর্ধ শতাধিক কিংবা শতাধিক অথবা তার চাইতেও বেশি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচালনা করেছেন,তন্মধ্যে কাসেমি সাহেবও একজন ।জামেয়া মাদানিয়া বারিধারা ও সুবহানিয়া সহ প্রায় সত্তুরটির মত মাদ্রাসার হয়তোবা প্রতিষ্ঠাতা নাহয় মুহতামিম কিংবা নেগরানী করেছেন আজীবন ।


দেওবন্দী চেতনা: বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় চল্লিশ লক্ষের মত আলিম-উলামা রয়েছেন ।এদের মধ্যে অধিকাংশ আলিম হবেন কাওমি মাদ্রাসার পডুয়া এবং বাকিরা আলিয়া বা সরকারি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
তাই সকল কাওমিদের প্রথম পরিচয় হল কাওমি এবং প্রতিটি কাওমি মাদ্রাসার জন্য দেওবন্দ মাদ্রাসা মাতৃসুলভ হওয়াতে এসব মাদ্রাসাগুলোর মুল পরিচয় হল দেওবন্দি মাদ্রাসা।

কিন্তু বাস্তব ও চরম সত্য হল,আমার দেশের কাওমি মাদ্রাসার আলিমগন দেওবন্দের কাসেমি চেতনাকে পুর্ণাঙ্গরুপে ধারন করতে অক্ষমতা,দুর্বলতা,অলসতা বা ভিন্ন মানসিকতা সহ যেকোন কারনেই অনেকেই আজ কাসেমি চেতনাতে যেন ভাগাভাগি, অপুর্ণাঙ্গ ও আংশিক হয়ে পড়ে আছেন।

অত:পর দেখাযায় দেওবন্দের অপুর্ণাঙ্গ চেতনা সহ স্বীয় আবেগ বা চেতনাকে একত্রিতভাবে লালন করে মনিষীদের পথ ও মত থেকে অনেকেই যেন আজ দুর-বহুদুর ।আর এভাবেই সৃষ্টি হয় আমাদের মাঝে নানান তরিকাও ফিরকা,দল-উপদল, রাজনীতি ও অপরাজনীতির দ্বেষ ও বিদ্বেষে সহ ভয়াবহ আবদ্বতা ।

কিন্তু আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমি এবং শামসুদ্দিন কাসেমীদ্বয় ছিলেন কাসেমী শিক্ষানীতি, সুফিনীতি, রাজনীতি সহ সকল নীতিতে সার্বিক দিক বিবেচনায় মুলধারার উপর খেজুরবৃক্ষের মত সুউচ্ছরুপে অটল ও অবিচল । যেমন ছিলেন আল্লামা মুহিউদ্দিন খান র. সহ আরো অনেক স্বনামধন্য ইসলামী মনিষীগনও।


নেতৃত্ব: নেতৃত্বে যিনি ছিলেন একাধারে নবীজীর পুরো উম্মাহসহ আমার দেশের একজন জাতীয় এবং ধর্মীয় আদর্শিক নেতা ।দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম সহ সাদাকালো পতাকাবাহী ভারত উপমহাদেশের শতবর্ষী প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের স্বনামধন্য মহাসচিবও ।জীবনে কখনো যাদেরকে ইসলামও দেওবন্দি চেতনার মুলধারা থেকে চুল পরিমানও পিছপা করতে পারেনি যেকোন অপশক্তি ।এজন্য তারাইতো আমাদের স্বচ্ছ ও যথার্থ রাহবার ।


আদর্শিক রাহবার: দেশের বিবেকরানরা সকলেই আজ একবাক্যে তাদেরকেই আদর্শিক রাহবার বলতে যেন বাধ্য হচ্ছে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে আল্লামা কাসেমিগনের মত কাজ করার তৌফিক দান করে তাঁদের পুর্ণাঙ্গ অনুসারী হওয়ার তৌফিক দান করুন ।আমিন ।

আপনার মতামত লিখুন :