• 136

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠিত

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠিত

ফান্ডরাইজিং প্রোগ্রাম ফর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জন্য বাৎসরিক ভার্চুয়াল ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর আইটিভি ইউএসএ-তে এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. সিদ্দীকুর রহমান, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ডিরেক্টর ইমাম শামসি আলি, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, ইমাম শাইখ জুনাইদ আহমেদ, ইমাম শাইখ আকিব চৌধুরী, ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ, বিওটি-এর চেয়ারম্যান সাইয়েদ আবু মুজাফ্ফর, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রিন্সিপাল শাইখ মুজাহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় জামিয়া কোরআনিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নাজিফ জাহেরির তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. সিদ্দীকুর রহমান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম শিশুদেরকে ইসলামি শিক্ষার পরশ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এ সেন্টার। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে মুসলিম শিশুদের নিয়ে কাজ করা এ প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা আর্থিক সঙ্কটে আছে। তাই সামর্থ অনুযায়ী সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ডিরেক্টর ইমাম শামসি আলি মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য বিয়ে আলোচনা করার পর বলেন, আমেরিকা এমন একটি দেশ যেখানে আদদাওয়াতু ইলাল্লাহর কাজ বেশি বেশি করার দরকার। আর সে কাজটি করছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার। তিনি বলেন, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন তার পথে দান করলে তিনি কয়েকগুণ বাড়িয়ে পরকালে ফিরিয়ে দিবেন। তাই আমি মুসলিম ভাইবোনদের বলবো, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-এর পাশে দাঁড়ান, তাদের এ কাজে শরিক হোন; আল্লাহর পুরষ্কার গ্রহণ করুন।

ইমাম শাইখ জুনাইদ আহমেদ  সাদাকার ইহলৌকিক ও পরলৌকিক উপকারিতার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার পর বলেন, নবী করিম সা. বলেছেন, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয়, সাদাকাও তেমন বিপদ দূর করে। তাই পার্থিব এ জীবনে সাদাকার কোনো তুলনা হয় না। আপনার সাদাকাহ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারকে প্রদান করে তাদের সঙ্গেী হোন। ইসলাম ও দ্বীনের জন্য কাজ করুন।

ইমাম শাইখ আকিব চৌধুরী বলেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইসলামের শিক্ষার আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের দ্বীন বোঝাতে কাজ করছে। হিফজুল কোরআন বিভাগ, আলেম কোর্সসহ প্রতিষ্ঠানটি কর্মব্যস্তদের জন্য উইকেন্ড বিভাগের মাধ্যমেও দ্বীন শেখাচ্ছে। তাই আমি অনুরোধ করবো, অর্থ ও পরামর্শ দানের মাধ্যমে আপনারা নিয়মিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পাশে থাকুন।

ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ বলেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার তার মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পরিবারে মতো বসবাস করছে। দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে। তাই আপনিও এর সাহায্যে এগিয়ে আসুন। এর মাধ্যমে আপনি ইহকাল ও পরকাল উভয় জাহানেই প্রতিদান পাবেন।

তিনি বলেন, নবী করিম সা. বলেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর নেকী অর্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি পথ খোলা থাকে। এক- সাদাকায়ে জারিয়া, দুই- এমন জ্ঞান রেখে গেলে যার থেকে মানুষ উপকৃত হচ্ছে, তিন- নেক সন্তান। এখানে নবী সা. প্রথমেই সাদাকার কথা বলেছেন। তাই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো সাদাকার মাধ্যমে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পাশে দাড়ান। এবং মৃত্যুর পরও নিজের নেকীর দরজা খোলা রাখুন। যতটুকু পারেন সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ প্রভূ আপনাদের কল্যাণ করবেন।

বিওটি-এর চেয়ারম্যান সাইয়েদ আবু মুজাফ্ফর কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সবাই সতর্ক থাকার আহ্বান জানানোর পর বলেন, মসজিদ ও মাদরাসায় সাদাকাহ হলো সাদাকায়ে জারিয়া। যার প্রতিদান ধারাবাহিকভাবে চলতেই থাকে। তাই আমি বলবো সাদাকায়ে জারিয়ায় সঙ্গী হোন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারকে তাদের কাজ করার পথ সহজ করে দিন।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রিন্সিপাল শাইখ মুজাহিদুল ইসলাম করোনার পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিষয়ে আলোচনা করার পর বলেন, আমেরিকার মতো একটি জায়গায় এমন একটি সেন্টার এটা আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। সময়ের ব্যবধানে আপনাদের সহায়তায়  প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছে।

দেখুন আমাদের সবারই একদিন চলে যেতে হবে। আজ না হয় কাল। যদি এর আগে সাদাকার মাধ্যমে আমাদের পরকালের কিছু সম্বল নিয়ে যেতে পারি তাহলে এটাই তো সফলতা।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২২ টি ক্লাস চলে। এর জন্য সমপরিমাণ টিচার্স দরকার কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে আমরা পারছি না। কেননা বর্তমানে যেভাবে চলছে এর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রত্যেক মাসে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এসব হচ্ছে আপনাদের সহায়তায়। কিন্তু এখনো অনেক কাজ বাকি। অনেক প্রয়োজন বাকি।

তাই সবাইকে বলবো আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন। আপনাদের সাদাকায় এগিয়ে যাবে আপনাদের প্রিয় এ প্রতিষ্ঠান।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জন্য বাৎসরিক ভার্চুয়াল ফান্ডরাইজিং প্রোগ্রামটি ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ-এর দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন :