• 123

‘রজব থেকেই শুরু করতে হবে রমজানের প্রস্তুতি’

‘রজব থেকেই শুরু করতে হবে রমজানের প্রস্তুতি’

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন ‘নিউইয়র্ক ডায়েরি’তে অতিথি হিসেবে অষ্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে যুক্ত হয়েছিলেন শাইখ মোহাম্মদ আবু হুরায়রা আজহারী। তার সঙ্গে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আরজে আরিয়ান


রজব মাসের অর্ধেক চলে গেছে। এই মাসের গুরুত্ব এবং করণীয় যদি জানাতেন।

রজব মাসের ক্ষেত্রে একটা প্রচলিত হাদিস রয়েছে ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে এই মাসে ও পরবর্তী সাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌছে দিন।’ এই হাদীসটা বহুল প্রচারিত হলেও এটা কিন্তু সহীহ হাদিস না, এটা জইফ হাদিস। তবে কেউ এটাকে দোয়া মনে করে করতে পারেন। রজব মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম উম্মাহর জন্য। কারন রমজান মাসের প্রস্তুতি এই মাস থেকেই নিতে হবে।

বিষয়টাকে হয়তো এভাবে বলা যায়, একটা গাছ থেকে আপনি যদি ফল পেতে চান, তাহলে সেই গাছটার পরিচর্যা দুই মাস, তিন মাস বা এক বছর আগে থেকেই করা উচিত। তেমনিভাবে এই রজব মাস হলো বীজ বপনের মাস, সাবান মাস হলো পরিচর্যার মাস, আর রমজান মাস তো সেই মহিমান্বিত মাস যে মাসে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে।


রমজান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে কী কী করণীয়?

রমজান মাসে জীবনযাত্রায় এক ধরনের পরিবর্তন আসে। মুসলিম হিসেবে নিয়মিত ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন পড়া, বুঝা, জানা এবং মানা। তারাবির সালাত আলায় করা। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন হওয়া। তাই এই জীবন যাত্রার জন্য কিন্তু রজব মাস থেকেই আপনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।


রজব মাস আর কোন কোন কারনে গুরুত্বপূর্ণ?

এই মাসের একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হিজরত। নবী করিম (সা.) তার সাহাবীদেরকে এই মাসে হিজরত করতে বলেছেন যার মাধ্যেমে ঈমান রক্ষা করা সম্ভব। ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশেই নামাজ আদায় করা বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার যথেষ্ট পরিবেশ নেই, তাহলে কিন্তু আপনার হিজরত করা উচিত অন্তত এমন জায়গায় যেখানে নির্বিঘেœ নামাজ আদায় করা যায়।

এই মাসের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় হলো শব-ই-মেরাজ। এই মাসেই মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) মেরাজে নিয়ে যান। তাই এই মাসটি আলাদা তাৎপর্য বহন করে।

এই মাসেই তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। যারা দ্বীন ইসলাম মানেননি তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী এই মাসেই সশস্ত্র যুদ্ধে নেত্বতৃ দিয়েছেন। তাই এই মাস থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। কীভাবে দ্বীন প্রচার করা যায়, কীভাবে আরো বেশি ঈমানি শক্তি অর্জন করা যায়, কীভাবে রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে হয়ে সেটা জানা এবং বোঝা কিন্তু এই মাসের মুখ্য ব্যাপার।


আপনি সিডনিতে অবস্থান করছেন। সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে যদি একটু বলতেন?

আসলে এখানে আমি একটা মসজিদে আট বছর ধরে ইমামের দায়িত্ব পালন করছি। শুধু বাঙালি কমিউনিটিই নয়, এখানে সকল কমিউনিটির মানুষেরা ধর্মচর্চার পুরো স্বাধীনতা পায়। আপনি জেনে অবাক হবেন, এখানে কয়েক লক্ষ মুসলিম আছে এমন কি আমি যে মসজিদের ইমাম, সেই মসজিদেও প্রতি রমজান মাসেই প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মুসলিম আমরা একসাথে ইফতার গ্রহণ করি।

আপনার মতামত লিখুন :