• 109

‘আমার লেখার বিষয়বস্তু সমাজ ও রাজনীতি’

‘আমার লেখার বিষয়বস্তু সমাজ ও রাজনীতি’

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন নিউইয়র্ক ডায়েরিতে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সমাজকর্মী, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক জনাব মাহমুদ রেজা চৌধুরী। তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপে মেতেছেন আরজে আরিয়ান


স্বাগত মাহমুদ রেজা চৌধুরী। আপনার শৈশব সম্পর্কে জানতে চাই।

প্রথমেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এফএম-৭৮৬ এর সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার শৈশব কেটেছে  আজিমপুর কলোনিতে। তবে এর আগের কথা বললে একদম ছোট বেলায় আমরা থাকতাম আরমানিটোলায়। তখনকার ঢাকা এখনকার মতো ঘিঞ্জি ছিল না, আমরা মনে আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারতাম।


আপনার পড়াশোনা?

শুরুটা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। পড়াশোনা শেষ করে খুব একটা দেরি করিনি। কিছুদিন পরেই চাকরিতে ঢুকে গিয়েছিলাম।


আমেরিকায় আসা হলো কত বছর?

সেই গল্প বলতে গেলে অন্তত ৩০-৩৫ বছর পেছনে যেতে হবে। ১৯৮৬ সালে আমি আমেরিকায় চলে আসি।


আপনার লেখালেখির হাতেখড়ি কখন?

লেখালেখির শুরুটা মূলত ১৯৮৬ সাল থেকেই। আমি মনেকরি, যে কোনো সৃষ্টির পেছনে কোনো না কোনো ব্যথা থাকতে হয়। আবেগ, অনুভ‚তি, শুন্যতা কিংবা গভীর কোনো চিন্তা থাকতেই হবে লেখালেখির পেছনে। বিশেষ করে আমি যখন আমেরিকায় আসি তখন অর্থাৎ আশির দশকের পর বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যাপক অবক্ষয়ের দিকে চলে যায়। আমার লেখালেখির পেছনে এই বিষয়টি প্রভাব ফেলেছিল।


বই বেরিয়েছিল কখন? 

নব্বইয়ের দশকে আমেরিকা থেকে ‘প্রবাসী’ নামে একটা পত্রিকা প্রকাশ হতো। সম্পাদনা করতেন মাহমুদউল্লাহ সাহেব। উনিই প্রথম আমাকে বললেন, প্রতিবছর তোমার লেখাগুলোকে যুক্ত করে বই বের করো। তার কথা অনুযায়ী বই বের করে ফেললাম। প্রথম বই প্রকাশ পায় ১৯৯৫ সালে, নাম ‘দূরের প্রবাস কাছের স্বদেশ’। এরপর থেকে প্রতি ৫ অন্তর একটা করে বই বের করি। আমি সক্রিয় রাজনীতি করি না। তবে দেশের কল্যাণে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করি। বলতে পারেন, আমি রাজনীতি করি না, রাজনীতি পড়ি।


জো বাইডেনের কারণে বাংলাদেশের লাভ কতটুকু?

আসলে আমেরিকার রাজনীতির উত্থান পতনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না বললেই চলে। প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক গড়ন আলাদা। অঞ্চল, ভ‚-প্রকৃতি, জীবনযাত্রাসহ নানা দিক থেকে মানুষগুলো আলাদা। মার্কিন মুল্লুকের সঙ্গে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতির বিষয়টা খুব কমই জড়িত বলে আমি মনে করি।


অভিবাসীদের জন্য কতটা সহায়ক হবে নতুন প্রশাসন?

ট্রাম্প প্রশাসনের চেয়ে জো বাইডেনের প্রশাসন অভিবাসীদের জন্য আরো উদার হবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণে বাইডেনের দীর্ঘ রাজনীতির অন্যতম এজেন্ডা এটি। তবে কোনো সিগনিফিকেন্ট পরিবর্তন আসবে না বলেই আমি মনে করি।


জনতন্ত্র আর গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?

জনতন্ত্র মানে হলো শাসক যা বলে তাই হবে। শাসক গোষ্ঠী যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই জনগনকে মানতে হবে। আর গণতন্ত্র হলো গণমানুষের জন্য। নির্দিষ্ট করে বললে, গনতন্ত্র মানে আপনাকে উদার হতে হবে, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা হতে হবে, ধৈর্য থাকতে হবে। এগুলো না থাকলে গণতন্ত্রের প্র্যাক্টিস না করাই শ্রেয়। জনগণের নামকে বিক্রি করে নেতারা জনপ্রতিনিধি হয়ে থাকেন।


ক্যাপিটল হিলের হামলাকে কীভাবে দেখেন?

আপনি জানেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সময়কালে প্রায় ৪০০ জাজ নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু দেখেন, এরা কেউই কিন্তু তার পক্ষে কাজ করেনি। তারা ইনস্টিটিউশনের হয়ে কাজ করেছেন। তারা এবারও প্রমাণ করেছেন, ইনস্টিটিউশনের হয়েই কাজ করতে হয়। সর্বোপরি, কাজ করতে হয় দেশের জন্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মতো এখানকার সেক্টরগুলো করাপ্টেড না। এখানে সবাই গণতন্ত্রের হয়ে কাজ করে, কোনো দলের হয়ে না। আমি মনেকরি, এখানেই আমেরিকার গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।


ট্রাম্প যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছেন, সেটা পুষিয়ে নিতে কতদিন লাগবে?

আমি আমার অনেক লেখাতে বলেছি, এই ক্ষত পুষিয়ে নিতে অন্তত চার দশক সময় লাগবে। জো বাইডেন প্রশাসনের কাছে আমাদের যদিও অনেক প্রত্যাশা। তবে অন্তত দুই বছর পরে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেখার জন্য। তারপর হয়তো নির্দিষ্ট করে বলা যাবে, আমাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মেলবন্ধন কতটুকু হলো।


আপনার লেখা বইগুলোর নাম ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাই?

আমার প্রতিটা বইয়ের বিষয়বস্তু সমসাময়িক সমাজ ও রাজনৈতিক কালচার। আর মোটাদাগে বললে মূল্যবোধ, সমাজবোধ, সমাজদর্শন, রাজনীতিই হলো আমার লেখার মূল বিষয়। আমি প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর বই প্রকাশ করি। প্রথম বই ‘দূরের প্রবাস কাছের স্বদেশ’ প্রকাশ হয় ১৯৯৫ সালে। এরপর ২০০০ সালে প্রকাশ হয় ‘খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ার’। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘নাগরিক চিন্তা।’ চতুর্থ বইয়ের নাম ‘বে-হক কথা’। তারপর ‘গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি’ এবং ‘বাংলাদেশ-বর্তমান ও ভবিষ্যত ভাবনা’। ২০২১-এ আমার নতুন বই আসছে ‘নিঃশব্দ শব্দাবলী’ নামে।

আপনার মতামত লিখুন :