• 184

কলম্বাসের আগে মুসলিম ভুতাত্ত্বিকের আমেরিকা আবিষ্কার

কলম্বাসের আগে মুসলিম ভুতাত্ত্বিকের আমেরিকা আবিষ্কার

কলম্বাসের আগে মুসলিম ভুতাত্ত্বিকের আমেরিকা আবিষ্কার

বলা হয়, ১৪৯২ সালে স্পেনীয় রানী ইসাবেলার সহায়তায় সমুদ্রযাত্রায় আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কার  করেন ইতালীয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলোম্বাস। কিন্তু তার আমেরিকায় পৌছানোর পাঁচশত বছর আগেই আমেরিকা মহাদেশের অস্তিত্ব বিষয়ে মত প্রকাশ করেছিলেন এক মুসলিম গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী।


আবু রায়হান আল-বেরুনী নামের মধ্য এশিয়ার এই মুসলিম বিজ্ঞানী ৯৭৩ সালে বর্তমান উজবেকিস্তানের অর্ন্তগত খাওয়ারিজমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম মন্তব্য করেন, ইউরোপ ও এশিয়ার মাঝখানের বিশাল সমুদ্রের মধ্যে অনাবিষ্কৃত ভূখণ্ড থাকতে পারে।


যদিও তিনি নতুন এ ভূখন্ডের অবস্থানের সম্ভাব্যতার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, তবে তিনি নিজে কখনোই তা  দেখার সুযোগ পাননি। ভূগোল, মানচিত্র ও গণিতে তার অপরিসীম দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আমেরিকা মহাদেশের অস্তিত্ব সম্পর্কে মত প্রকাশ করেছিলেন।  


বহু শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন আল-বেরুনি। মধ্যপ্রাচীয়, মধ্যএশীয় ও ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, খনিবিদ্যা, ভূগোল, মানচিত্রবিদ্যা, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতিতে তার বিপুল দক্ষতা ছিল। তৎকালীন বিখ্যাত মধ্যএশীয় বিজ্ঞানী আহমদ আল-ফারঘানির তত্ত্বাবধানে তিনি এসকল বিষয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ নেন।


বিভিন্ন শাস্ত্রে এই দক্ষতা তাকে সক্ষম করেছিল বিভিন্ন ক্ষেত্র ও সভ্যতার জ্ঞানচর্চায় প্রখর দূরদৃষ্টি অর্জন করতে। 


মধ্য এশিয়া, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নিয়ে তিনি কাজ করা শুরু করেন। এছাড়া এরপূর্বে কাজ করা গ্রিক দার্শনিক টলেমি ও পিথাগোরাসের কাজ নিয়ে তিনি অধ্যয়ন করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের অল্প কজন বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের অন্যতম যারা মনে করতেন, পৃথিবীর আকৃতি মূলত গোলাকার।


একইসঙ্গে আল-বেরুনী পৃথিবীর ব্যাসের গাণিতিক পরিমাপ সম্পর্কে একটি ধারণা দেন। আধুনিককালে প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসের থেকে তার গণিতের উপর নির্ভর করে বের করা সংখ্যায় মাত্র ১০.৪৪ মাইলের ব্যবধান ছিল।


বিশাল আয়তনের এই পৃথিবীতে এশিয়া ও ইউরোপের মাঝের সাগরেও বিশাল ভূখন্ড থাকার বিষয়ে তিনি তার ‘কানুন মাসুউদি’ গ্রন্থে মতপ্রকাশ করেন। 


১০৩৭ সালের দিকে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এসময় প্রায় ৬৫ বছর বয়সী আল-বেরুনির পক্ষে তার ধারণাকে পরীক্ষা করার মত শারীরিক সামর্থ না থাকায় তিনি আমেরিকার বাস্তব অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে যেতে পারেননি।


১৪৯২ সালে স্পেন থেকে ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন ভারতে আসার বিকল্প পথের খোঁজে সমুদ্রযাত্রা করেন, তখন ভুলক্রমে তিনি ভারতের দিকে যাত্রা না করে সমুদ্রের অপর পাড়ে যাত্রা শুরু করেন। নতুন ভূখন্ড আবিষ্কারের কোনও উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন ভূখণ্ড আমেরিকা মহাদেশের বাস্তব অস্তিত্ব আবিষ্কার করে বসেন।

আপনার মতামত লিখুন :