• 134

ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুলের ভার্চুয়াল সম্মিলন

ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুলের ভার্চুয়াল সম্মিলন

ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুলের ভার্চুয়াল সম্মিলন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  উপলক্ষে ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুলের ভার্চুয়াল সম্মিলন ও শিশু -কিশোর পারফরমেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিপুল সংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সম্মিলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক, পেনসেলভিনিয়া ডেক্সেল ইউনিভারসিটির এমিরেট অধ্যাপক ডা. জিয়া উদ্দিন আহমদ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুল মালিক, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল, আইটিভি ইউএসএ ও এফএম-৭৮৬ এর সিইও অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো যুক্ত ছিলেন নিউইয়র্কে ডেপুটি কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসান, স্ট্যাট সিনেটর রবার্ট জ্যাকসন, বাংলাদেশি  আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকন, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, ইউএসএ অনলাইন ডটকমের সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান মঈন উদ্দিন বিপ্লব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাবেল। অন্যান্যের মধ্যে যুক্ত ছিলেন স্কুলের পরিচালনা পরিষদ সদস্য মনির উদ্দিন, অভিভাবক মুহাম্মদ ইসমাইল, মজলু হোসাইন।


ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুলের চেয়ারম্যান ও সিইও ইকবাল আহমদ মাহবুবের সভাপতিত্বে এবং স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এতে  আলোচনায় অংশ নেন ছাতক সমিতির সভাপতি এম আব্দুল খালিক, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক আহমেদ ,স্কুলের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল রুখসানা রাজ্জাক খান , আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের খতিব মাওলানা রফিক আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান কাসেমী, কমিউনিটি একটিভিস্ট তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু, স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ বেলাল, সানজিদা খাতুন, স্কুলের অভিভাবক দীন ইসলাম, জাহেদা আহমেদ সোমা। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন ইউএসএ বাংলাদেশি অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সেলিম।


সম্মিলনে বক্তারা মহান ভাষা দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে প্রবাসে বাংলা ভাষা চর্চা ও আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে কমিউনিটির সকল মহলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রবাসে আমাদের প্রতিটি ঘরে বাংলা ভাষায় কথা বলার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। অতিথি অধ্যাপক ডাক্তার জিয়া উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে স্কুল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তাদের অসামান্য  অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর সহযোগিতায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা এদেশে বড় হয়েছে তাদের কাছে বাংলা একটি নতুন ভাষা। শিশুকাল থেকে এ ভাষা শিক্ষা দিতে না পারলে পরে তা আয়ত্ব করা কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যানহাটান বাংলা স্কুল সে কাজটিই সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছে। কনসাল জেনারেল তার বক্তৃতায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের চমৎকার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, স্কুলের কার্যক্রম প্রবাসে  বাংলাভাষা চর্চায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান।


ডাক্তার আব্দুল মালিক বলেন, ম্যানহাটান বাংলা স্কুল নতুন প্রজন্মকে যেভাবে বাংলা ভাষা শিক্ষাদানে অবদান রাখছে এবং আমাদের  ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলছে সেজন্য এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। আব্দুর রহিম হাওলাদার বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের একথা বোঝাতে হবে যে, ভাষা শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করার কারণে তারা আমেরিকার নাগরিক হতে পেরেছে। বাংলা ভাষা শেখার জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি এ প্রতিষ্ঠানকে সকল ধরণের সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মইনুল হক চৌধুরী হেলাল স্কুল প্রতিষ্ঠায় এর চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ মাহবুবের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সদিচ্ছার প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্কুল পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করে সম্ভব সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল আহমদ মাহবুব অতিথিদের সব সময় স্কুলের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়ে অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অতিথিগণ বলেন, ম্যানহাটান বাংলা স্কুল বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি চর্চায় অসামান্য অবদান রাখছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে স্কুলটি একদিন ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে  শিশু-কিশোরদের মনোজ্ঞ পারফরম্যান্স অতিথি ও দর্শকদের অভিভূত করে। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি দেশে ও প্রবাসে বিপুল সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :