• 116

সৈয়দ আল আমিন রাসেল

‘সন্তানকে সময় দিন, বন্ধুর মতো মিশুন’

‘সন্তানকে সময় দিন, বন্ধুর মতো মিশুন’

নিউইয়র্ক ডায়েরি পোস্টার

বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্ক’র অ্যাডভাইসার সৈয়দ আল আমিন রাসেল। তিনি যুক্ত হয়েছিলেন নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬’র নিয়মিত আয়োজন ‘নিউইয়র্ক ডায়েরিতে’। টেক্সাস ট্র্যাজেটিসহ সমসাময়িক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। সঞ্চালনায় ছিলেন আরজে আরিয়ান।


আপনাকে স্বাগতম আজকের এই আয়োজনে।

আপনাকেও ধন্যবাদ আমাকে যুক্ত করার জন্য।


টেক্সাসের ঘটনার জন্য কোন বিষয়কে দায়ি করবেন?

আমি এমন ঘটনার জন্য আসলে শুধুমাত্র একটি বিষয়কে দায়ি করতে চাইনা। এর সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। এর সিংহভাগ দায় অবশ্যই পরিবারের। বাবা-মা যদি সন্তানকে বন্ধুর মতো মনে করে, ওদের সাথে মিশে, ওদের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করতো, তাহলে কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতো না। হতাশা থেকেই কিন্তু এমন ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা দেখেছি।


প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের দূরত্বে কাটানোর উপায় আছে কি?

আসলে সময় বদলেছে। আমাদের চিন্তার ধরনও বদলেছে। এখন আসলে সন্তানকে কিন্তু মারধর বা কড়া শাসন করে মানুষ করবার দিন নেই। যথাসম্ভব ওদের সাথে মিশতে হবে। কিছুটা গ্যাপ হয়তো থাকবে। তবে একদম বন্ধুর মত না মিশলে কিন্তু ওর ভালোলাগা -মন্দ লাগার কথাগুলো আপনি জানতে পারবেন না। তাই শিশুর ছোটবেলা থেকেই ওদের সাথে বন্ধুর মতো মেশার কোনো বিকল্প নেই।


আমরা আমাদের সন্তানকে কতটা শিকড়ের সন্ধান দিচ্ছি? 

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় বলেছেন। আমরা অনেকেই আমাদের সন্তানদের বাংলা ভাষা, বাংলা রীতি-নীতি কিংবা বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে খুব একটা শিক্ষা দিই না। আসলে শিকড়ের সন্ধান দেয়াটা খুব জরুরি। 


সন্তানরা পরিবারের মুরব্বীদের সাথে খুব একটা মিশতে চায়না, কেন?

ওই যে আপনাকে বললাম,বাব-মা কে আসলে সময় দিতে হবে সন্তানকে। হয়তো দিনে একবার হলেও একসাথে খাবার খাওয়া উচিত। খাবার টেবিলে বসে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ, আত্মীয় এদের নিয়ে সন্তানের কাছে গল্প করা উচিত।


অধিকাংশ বাবা-মা কর্মব্যস্ত, সেক্ষেত্রে কি করে সন্তানকে সময় তারা দেবেন?

আমি বাবা-মা'দের উদ্দ্যেশে বলবো আপনার কাজ, আপনার কর্মব্যস্ততা সবকিছু কিসের জন্য? আপনার এসব কিছুই তো আপনার সন্তানকে ভালো রাখার জন্য। আপনার দেখতে হবে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আপনার কর্মজীবন নাকি আপনার সন্তানের জীবন? আমি বলছিনা কর্মজীবন বাদ দিতে, আমি বলছি সন্তানের জীবনকে নিজ কর্মজীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে। 


ভাষাগত দূরত্ব কি প্রভাব ফেলছে?

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন করেছেন। সন্তানকে বাংলা ভাষাটা অন্তত বলানোর চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। বাইরে যেহেতু সর্বদা ইংরেজিতে কথোপকথন করতে হয়, তাই পরিবারে মানুষের সাথে কথাবার্তায় কিংবা ঘরের মাঝে যেন অবশ্যই আমরা সবাই বাংলায় কথা বলার অভ্যাসটা গড়ে তুলি। কিংবা আমরা এমন একটা নিয়ম করতে পারি সপ্তাহের একটা দিন পরিবারের সবাইকে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করতে হবে সারাদিন। 


সম্প্রতি নিউইয়র্কে গাজা তো বৈধ করা হয়েছে?

এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের সন্তানের প্রতি আমাদেরকে আরো বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই জো বাইডেন প্রশাসন এই বিষয়ের দিকে নজর দিয়েছে। আশা করি আমাদের সন্তানদেরকে যদি আমরা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে ওরা হয়ে উঠছে ভালো মানুষ-শুদ্ধ মানুষ। 


রমজান এবং বৈশাখ উপলক্ষে কোনো বার্তা দিতে চান কি? 

অবশ্যই।পবিত্র মাহে রমজান মাসে আমরা যেন আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারি। পারস্পারিক সম্প্রীতি বাড়াতে পারে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, ধর্মীয় জ্ঞান বাড়াতে পারি। গুনাহ মাফ করাতে পারি।অসুস্থ্য পৃথিবীকে সুস্থ্য করার দোয়া করতে পারি। এই রমজান হয়ে হঠুক আমাদের সকলের আত্মপরিশুদ্ধির মাস। আর নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই সকল বাঙালিকে।একটা অনুরোধ আসুন আমরা এই প্রবাসে বাঁচিয়ে রাখি বাংলা সংস্কৃতিকে। সবার জন্য শুভকামনা ও দোয়া। 

আপনার মতামত লিখুন :